কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের হাওহীদা ইসলাম ইলমা (৯) নামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ডাকাতিয়া নদীতে পুতে রাখে হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ধর্ষকদের বসত ঘরসহ ৬টি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ধর্ষক মাঈন উদ্দিন বাপ্পি (২০) ও মিজানুর রহমান (১৯) সহ ৫ জনকে আটক করেছে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের গজারিয়া গ্রামে শনিবার (১৬ মার্চ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। নিহত স্কুল ছাত্রী ইলমা গজারিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে এবং গজারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র মতে, ইলমাকে শুক্রবার বিকেলে পাশ্ববর্তী বাড়ির জাকির হোসেনের বখাটে বাপ্পি ও একই বাড়ির আবুল কালামের ছেলে মিজানুর রহমান তেতুলের প্রলোভন দেখিয়ে বাপ্পিদের ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে প্রথমে লাশ বাপ্পির ঘরের সিলিংয়ের উপর লুকিয়ে রাখে। পরে গভির রাতে বাড়ির পাশে মরা ডাকাতিয়া নদীতে উলঙ্গ অবস্থায় লাশটি কাঁথা মুড়িয়ে পানির নিচে ডুবিয়ে রাখে।

এদিকে শুক্রবার রাত পর্যন্ত স্কুল ছাত্রী ইলমাকে খুঁজে না পেয়ে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মাইকিং ও পাশের ডাকাতিয়া নদীতে খুঁজতে থাকে। এক পর্যায়ে শনিবার সকালে এলাকাবাসী সন্দেহভাজন ভাবে বাপ্পিকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডাকাতিয়া নদীর পানির নিচ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয় ইলমার বাড়িতে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতা ধর্ষক বাপ্পি ও মিজানের বসত ঘরসহ ৬টি ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহতের মা হাছিনা বেগম নতুন কুমিল্লাকে জানান, ধর্ষক বাপ্পির বাড়িতে একটি তেতুল গাছ রয়েছে। ইলমা স্কুল থেকে আসা-যাওয়ার পথে প্রায় ধর্ষক বাপ্পি তাকে তেতুলের প্রলোভন দেখাতো। ঘটনার দিন শুক্রবার দুপুরে বাপ্পি স্কুল ছাত্রী ইলমাকে তেতুলের কথা বলেই তার ঘরে নিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ নতুন কুমিল্লাকে জানান, স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল আসামী বাপ্পি ও মিজানকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও তিন জনকে আটক করা হয়েছে। উত্তেজিত জনতা বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।





