কুমিল্লা
মঙ্গলবার,১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯ পৌষ, ১৪৩২ | ২৩ রজব, ১৪৪৭
শিরোনাম:

যে কারণে কুমিল্লায় মেম্বারের নেত্বত্বে তরুণীকে ধর্ষণ!

কুমিল্লার দেবিদ্বারে সিনেমা স্টাইলে তরুণীকে (২০) পালাক্রমে গণধর্ষণের অভিযোগে নবীরুল ইসলাম নবী (৩০) নামে এক ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গ্রেফতার নবী উপজেলার ভানী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য এবং সূর্যপুর গ্রামের মৃত মো. সামসুল হকের ছেলে।

এ ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেছেন ধর্ষণের শিকার তরুণী। মামলার পরই অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র মতে, ১৮ জানুয়ারি দুপুরে স্বামীকে নিয়ে ভানী ইউনিয়নের সূর্যপুরের রাস্তা দিয়ে জেলার পাশ্ববর্তী উপজেলার মুরাদনগরে স্বামীর বাড়ি প্রান্তি গ্রামে যাচ্ছিলেন তরুণী। পথে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলামের নেতৃত্বে শামিম, আকাশ, পাখিসহ অজ্ঞাত আরও ৮-৯ জন তাদের গতিরোধ করে। সেই সঙ্গে তরুণীর স্বামীর পরিচয় জানতে চায় তারা।

তারা দুইজন নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিলে ইউপি সদস্য নবীরুল তাদের বিয়ের কাবিননামা দেখতে চায়। পরে তরুণীর স্বামী বিয়ের কাগজপত্র দেখালে ইউপি সদস্য কাগজপত্র ভুয়া আখ্যায়িত করে বলে এসব কাগজপত্রে হবে না।

পরে ক্ষিপ্ত হয়ে নবীরুলের সঙ্গে থাকা আকাশ নামে এক যুবক ওই তরুণী ও তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম ২০ হাজার টাকা দিলে তা সমাধান করে দেবে বলে প্রস্তাব করে। পরে ওই তরুণীর স্বামী টাকার ব্যবস্থা করার জন্য স্ত্রীকে ইউপি সদস্য নবীরুলের হেফাজতে রেখে চলে যান।

সন্ধ্যায় ২০ হাজার টাকা নিয়ে আশার পর স্ত্রীকে রেখে স্বামীকে নিজের বাড়ি প্রান্তি গ্রামে চলে যেতে বলেন ওই ইউপি সদস্য। তার হেফাজতে রেখে ওই তরুণীর বাড়ি কুমিল্লার ছোটরায় এলাকায় পৌঁছে দেবে বলেও জানায় ইউপি সদস্য নবী।

পরে স্বামী প্রাণভয়ে তার নিজের বাড়ি চলে গেলে ইউপি সদস্য নবীরুল ইসলাম শামিম, পাখি, আকাশসহ আরও কিছু অজ্ঞাত যুবকের হাতে ওই তরুণীকে তুলে দেয়। তারা তরুণীকে ওই রাতেই বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ভানী ইউনিয়নের ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে অজ্ঞাত একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ইউপি সদস্য নবীরুল ওই তরুণীকে দুইবার ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে ইউপি সদস্য নবীরুল ভুক্তভোগী তরুণীকে পাখি, আকাশ ও শামীমদের হাতে তুলে দিয়ে বাড়ি চলে যায়। পরে ৭/৮ জন যুবক ওই তরুণীকে পুনরায় পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে ওই তরুণীকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এক পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, মেম্বারসহ মোট ৯ জন ধর্ষণে জড়িত। আমি তাদের মুখে একে অপরকে ডাকার নাম শুনে ২/৩ জনের নাম জানতে পেরেছি। বাকিদের নাম বলতে পারবো না। আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলেও পারেনি। তারা আমার হাত-মুখ চেপে ধরে রেখেছে। এর আগে আমার স্বামীর অনুপস্থিতেতে আমার হাতে কনডম দিয়ে আমাকে খারাপ মেয়ে বলে চালিয়ে দেয়ার জন্য মোবাইলে ভিডিও করা হয়।

এ বিষয়ে ভানী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. নুরুজ্জামান মুকুল নতুন কুমিল্লাকে বলেন, ঘটনার প্রায় ৪ মাস পর জানতে পারলাম। নিশ্চয়ই এখানে কোনো চক্রান্ত লুকিয়ে আছে। ওই তরুণী এতদিন কেন কালক্ষেপণ করলেন? সত্যিকারে যদি এ কাজে জড়িতের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে আইন অনুযায়ী তার বিচার হবে।

দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আনোয়ার নতুন কুমিল্লাকে জানান, ইউপি সদস্য নবীরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল রিপোর্টের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা পেলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

আরও পড়ুন