কুমিল্লা
সোমবার,১২ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ পৌষ, ১৪৩২ | ২২ রজব, ১৪৪৭
শিরোনাম:

আড়াই লাখ গ্রাহকের ভোগান্তি :

কালবৈশাখী ঝড়ে লাকসামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

লাকসাম উপজেলার নরপাটি এলাকায় ঝড়ে নির্মাণাধীন ভবনের সেন্টারিংসহ ছাদ উপড়ে পড়ে/ ছবি: নতুন কুমিল্লা

লাকসামে কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় ৩ উপজেলার আড়াই লাখ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ে। এছাড়াও ঝড়ে গাছ উপড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্যাসের পাইপলাইন। ঝড়ে রবিবার (৩১ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাসাসহ শিল্প-কারখানা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে স্থবিরতা নেমে আসে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পিডিবি’র প্রায় ২৮ হাজার ও পল্লী বিদ্যুতের লাকসাম, নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ উপজেলার সোয়া দুই লাখ গ্রাহক ভোগান্তিতে পড়ে।

জানা গেছে, লাকসাম পৌর শহরসহ আশপাশের এলাকায় গত রবিবার সন্ধ্যা ৭টায় হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। এতে পিডিবি’র লাকসাম বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের লালমাই থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৩৩ কেভি লাইনের ৫০টি পিন ইনসুলেটর ভেঙ্গে যায়, খুঁটি থেকে তার সরে পড়ে এবং রতনপুর, বিজয়পুর ও বিশ্বরোড এলাকাসহ কয়েকটি স্থানের ৬টি পোল হেলে পড়ে। ফলে লাকসামসহ আশপাশের উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

এছাড়াও লাকসাম উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সসহ পৌরশহরের বাইনঝাটিয়া, ধামৈচা, ভাটিয়াভিটা, জেলেপাড়া ও লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের তেলিপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে তার ছিঁড়ে যায় ও বৈদ্যুতিক তারের উপর গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে। ঝড়ে অনেক স্থানে গাছপালা ভেঙ্গে পড়ে, মৌসুমি ফল আমের গুটি ঝরে যায় এবং অন্যান্য ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।

সোমবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬:৫০টায় পিডিবি’র লাকসাম দৌলতগঞ্জ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সামির আসাদ জানান, ৫টি ফিডারের মধ্যে সবেমাত্র ৩টি চালু করা গেছে। বাকি দু’টি ফিডারের লাইন মেরামতের কাজ চলছে।

কুমিল্লা পবিস-৪ (লাকসাম) প্রকৌশলী দিলিপ চন্দ্র চৌধুরী নতুন কুমিল্লাকে জানান, ঝড়ের পর বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অনেকস্থানে লাইন ছিড়ে যায়, পোল হেলে পড়ে এবং তারের উপর গাছ ভেঙ্গে পড়ে। তিনি বলেন, মেরামত কাজ শেষে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের ২১টি ফিডারের অধীন ২ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের অধিকাংশই সংযোগ চালু করা হয়েছে। তবে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বেশ কিছু সেকশনে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। আমাদের কর্মিরা মেরামত কাজ করছে।

অন্যদিকে, ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়ায় বাখরাবাদ গ্যাসের লাকসাম এলাকার হরিশ্চর, বাকই ও বাগমারা এবং লাকসাম পৌরসভা এলাকার অন্তত ৬টি স্থানে পাইপ ছিদ্র হয়ে গ্যাস বেরুতে থাকে। হরিশ্চর এলাকায় পাইপ ফেটে আগুন ধরে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে বাখরাবাদ গ্যাসের কর্মকর্তা মোবারক হোসেনের নেতৃত্বে ঘটনাস্থলে পৌছে মেরামত কাজ করা হয়।

আরও পড়ুন