কুমিল্লা
মঙ্গলবার,১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯ পৌষ, ১৪৩২ | ২৩ রজব, ১৪৪৭
শিরোনাম:

নাঙ্গলকোটে বিধবার সম্পত্তিতে চোখ পড়েছে শকুনের

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ভূয়া দলিল ও খতিয়ান সৃষ্ঠি করে এক বিধবার ৩৭ শতকের বসত বাড়ি থেকে উচ্ছেদের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মৌকরা ইউপির মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত. আবু তাহের (আবুল) এর স্ত্রী মনোয়ারা বেগম বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মনোয়ারা বেগমের স্বামী মৃত. আবুল প‚র্ব পুরুষদের দেয়া পৈত্রিক সূত্রে ৩৭ শতক জায়গার মালিক হন তারা। এ জায়গাতে বসত বাড়ি নির্মাণ করে প্রায় শত বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। বর্তমানে সকল কাগজপত্র ও জায়গাটি ওই বিধবার দখলে রয়েছে।

এ জায়গার ওপর লোভ পড়ে একই গ্রামের প্রভাবশালী মৃত. মন্তু মিয়ার ছেলে শাহজাহান, শাহ আলম, শহীদের। তারা গত ২০০৩ সালে একটি ভূয়া দলিল সৃষ্ঠি করে খতিয়ান তৈরী করে। পরে ওই তিন ভাই পাশ্ববর্তী বাড়ির মৃত. ইউনুছ মিয়ার ছেলে আবুল কাশেমের কাছে বিক্রি করে দেয়। আবুল কাশেম মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে ওই জায়গাটি নামজারি করে খারিজ খতিয়ান করেন।

এনিয়ে মনোয়ারা বেগম বাদি হয়ে ভূয়া দলিল ও খতিয়ান বাতিলের বিরুদ্ধে গত ২০১৫ সালে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দীর্ঘদিন শুনানির পর আদালত কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে মনোয়ারা বেগমের পক্ষে রায় দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবুল কাশেম ও তার ছেলে সুজন ও সজিব জায়গাটি জোর পূর্বক দখল করার জন্য বিধবা ও তার পরিবারকে প্রাণ নাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে ওই বিধবার পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ ব্যাপারে মনোয়ারা বেগম নতুন কুমিল্লা.কম-কে বলেন, তার স্বামীর পূর্ব পুরুষরা প্রায় একশত বছর ধরে ওই জায়গার ওপম বাড়ি ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছে। কিন্তু প্রভাবশালী শাহজাহান, শাহ আলম, শহীদ ও একই গ্রামের আবুল কাশেম ও তার ছেলে সুজন ও সজিব জায়গাটি দখল করতে তাদের হুমকি দুমকি দিচ্ছেন।

মনোয়ারা বেগমের এক ছেলে জহিরুল ইসলাম বাবু প্রবাশে থাকে ও দুই মেয়ে বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে থাকেন। এ ঘটনায় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাছিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

অভিযুক্ত আবুল কাশেমের সাথে মুঠো ফোনে বার বার যোগায়োগ করেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বজলের রহমান বজু নতুন কুমিল্লা.কম-কে জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কয়েক বার শালিস বৈঠক হয়েছে। উভয় পক্ষের কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে। স্থানীয় ভাবে এটি মিমাংশা করার চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন