দেবিদ্বারে এই করোনা সংকট মুহুর্তে যেখানে পজেটিভ রোগীর খবর পাওয়া যায় সর্বাধিক ঝুঁকির মধ্যেও তিনি সেখানেই ছুটে যান, লকডাউন করেন আক্রান্তদের বাড়িঘর, দোকানপাট। কখনও সংগ্রহ করছেন সংস্পর্শদের নমুনা, বিভিন্ন ডাটা, আবার কখনও তাদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে মনোবল দৃঢ় ও শক্ত করতে বলছেন, ভেঙে না পড়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলারও পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
বিভিন্ন তথ্যের জন্য তাকে কখনও দুইবার ফোন করতে হয়নি। প্রথমবারই ফোন ধরে যা যা জানেন অনর্গল সব তথ্য তিনি দিয়ে দেন। নম্র, ভদ্র, হাস্যেজ্জ্বল স্বভাবের এ মানুষটিকে আমি নিজেই দেখেছি দুপুরের লাঞ্ছ করছে বিকেল ৫ টার পর। কোন কোন সময় কলা পাউরুটি আর এক গ্লাস পানিও খেয়েছেন আমার সামনেই।
এসব কেন খাচ্ছেন দুপুরে কিছু খাননি? এমন প্রশ্নে অনেকটা হাসি দিয়েই বলে ফেললেন ” অমুক জায়গা লক ডাউনে গিয়েছিলাম, তাদের নমুনা সংগ্রহ করা, ঢাকায় নমুনা পাঠানো, ডাটা পাঠানো, প্রতিদিনের রিপোর্ট কালেকশন করা, কারা কারা পজেটিভ আসছে তাদের চিহ্নিত করে আবার লক ডাউন এ যাওয়া, জেলা সিভিল সার্জন অফিসে তথ্য পাঠানো, এসব করতে করতে দুপুরে খাওয়ার সময় হয়নি”।
কুমিল্লা ১৭ উপজেলার করোনাভাইরাস আপডেট দেখতে এখানে ক্লিক করুন
তিনি যেমন পরিশ্রমী তেমনি মানবিকও। কিছুদিন আগে প্রায় ৬০ জন দরিদ্র মানুষকে পুষ্টিকর খাদ্য সামগ্রী উপহার দিয়েছেন। অথচ এর একদিন আগের কথা, আমি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রের জন্য ওনার অফিস রুমে বসা, ওনার ফোন বেজে উঠল, এ প্রান্ত থেকে কথা শুনেই বুঝা যাচ্ছিলো ওনার মিসেসের কল। বাসায় বাজার সদাই কিছুই নেই এটা জানালেন,
বাসায় ফেরার সময় যেন অবশ্যই বাজার সদাই নিয়ে যাওয়া হয়, ওনি তার মিসেসকে রিপিট করে বললেন, বাজার না থাকলে কিছুই করার নেই, আমি যেতে পারব না, হাসপাতালে অনেক কাজ পড়ে আছে, আমি কখন বের হবো তারও কোন নিশ্চয়তা নেই, সামনে সাংবাদিক বসা, তাছাড়া এখন বিকেল সব দোকানপাটও বন্ধ তুমি কোন রকম চালিয়ে নাও” বলেই ফোন রেখে দিলেন। হাসপাতালের সেবার বৃদ্ধির জন্য তিনি সার্বিক কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।
আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রায়ই ওনার শরীরের খোঁজ খবর রাখি। নিরাপদ দুরত্বে থেকে নিজের দায়িত্ব পালনের জন্যও বলি। এসময়ই করোনাযুদ্ধে চিকিৎসকদের অবদানই খুব বেশি, নিজের জীবন ঝুঁকিতে রেখে পরের জীবন বাঁচানোরযুদ্ধ করেই যাচ্ছেন তিনি। স্যালুট দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্মকর্তা ডা. আহম্মেদ কবীর। আপনার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।





