কুমিল্লা
মঙ্গলবার,২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ ফাল্গুন, ১৪৩২ | ৬ রমজান, ১৪৪৭
শিরোনাম:

কুমিল্লায় বুয়েট ছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন

কুমিল্লায় পাইলসের ভুল অপারেশনে বুয়েট থেকে পাস করা মেহেদী হাসান নামের এক যুবকের (৩২) মৃত্যুর ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইলাল হয়ে পড়েছে। এদিকে বিষয়টি তদন্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়াকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। অপর দুই সদস্যরা হলেন, কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. শাহাদাৎ হোসেন ও কুমিল্লা সদর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট ডা. অমৃত দেবনাথ। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ জুন) বিকেলে কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন নতুন কুমিল্লাকে এ তথ্য জানান।

নিহত মেহেদী হাসান (৩০) জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের সবুজপাড়া গ্রামের সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট আলী আক্কাসের ছেলে।

মেহেদীর পরিবার জানায়, সে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পাস করার পর বৃত্তি নিয়ে কানাডার দ্য ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলম্বিয়া নামের একটি বিশ^বিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে গবেষণারত ছিলেন। করোনায় গত বছরের মে মাসে সে দেশে আসে। বাড়িতে থেকেই অনলাইনে গবেষণার বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। গত রোববার (২০ জুন) পাইলসের সমস্যার কারণে মেহেদী হাসানকে নগরীর নজরুল এভিনিউ সড়কের গোমতী হাসপাতালের চিকিৎসক ও জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সার্জারি কনসালটেন্ট ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সলের অধীনে ভর্তি করা হয়।

সেখানে ওই দিনই তার পাইলসের অপারেশন হয়। অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের জন্য তাকে ৪ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়। কিন্তু এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটলে পরদিন সোমবার গভীর রাতে তাকে নগরীর বাদুরতলা এলাকার সিডিপ্যাথ নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের আইসিইউতে তাকে স্থানান্তর করা হয়। ওই হাসপাতালে ডা. আবু বকর সিদ্দিকসহ অন্য চিকিৎসক মিলে তার পূনরায় শরীওে সার্জারী করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (২২ জুন) বিকালে তার মৃত্যু হয়।

মেহেদী হাসানের ছোট ভাই কামরুল হাসান নতুন কুমিল্লাকে বলেন, ‘পাইলস এমন কোন জটিল অপারেশন ছিল না, এ অপারেশনে চিকিৎসকের ভুল না হলে আমার মেধাবী ভাইকে এভাবে হারাতে হতো না। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পর ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সল আমাদের নিকট ভুল অপারেশনের বিষয়টি স্বীকার করে আমার মা ও আমাদের নিকট ক্ষমা চেয়ে কান্নাকাটি ও অনুশোচনা করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তাছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িগড়ি করে হাসপাতাল থেকে লাশ বের করে এ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে দেয়। ওই রাতে বাড়িতে ফিরে মরদিন বুধবার মরদেহ দাফন করি।’

তদন্ত কমিটির প্রধান কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন ভূঁইয়া নতুন কুমিল্লাকে বলেন, ‘বিভিন্নজনের নিকট থেকে তদন্ত কমিটি গঠনের খবর জেনেছি, কিন্তু অফিসিয়ালি আমার হাতে এখনো তদন্ত কমিটির কোন কাগজ আসেনি, কাগজ পাওয়ার পরই তদন্ত কাজ শুরু করবো।’

কুমিল্লা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসেন নতুন কুমিল্লাকে জানান, মৃত্যুর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জেনে প্রাথমিকভাবে গোমতী হাসপাতাল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী রোববার (২৭ জুন) থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন