কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) আওতাধীন শ্রীকাইল-মেটংঘর সড়কটি ব্যস্ততম একটি সড়ক। এ সড়কটিতে ঝুঁকিপূর্ণ তিনটি ব্রিজের জন্য ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালক, যাত্রী ও সাধারণ পথচারীসহ এলাকার প্রায় লক্ষাধিক মানুষকে প্রতিনিয়ত সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বর্তমানে একটি ব্রিজের মাঝে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। এতে করে দিনে-রাতে হরহামেশাই ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। উপজেলার ব্যস্ততম এই সড়কের ব্রিজ গুলো দীর্ঘদিন থেকে ভেঙে গেলেও সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোন নজর নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন শ্রীকাইল-মেটংঘর-কোম্পানীগঞ্জ সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। প্রতিদিন প্রায় বিভিন্ন এলাকার লক্ষাধিক জনসাধারন তাদের প্রয়োজনীয় কাজে বিশেষ করে ঢাকা, কুমিল্লা, কোম্পানীগঞ্জ ও মুরাদনগর, বাঙ্গরা থানায় যাতায়তের জন্য এ সড়ক ও ব্রিজ ব্যবহার করে।

এছাড়া শ্রীকাইল বাজার, সরকারি কলেজ, হাই স্কুল, গার্লস স্কুল, সোনাকান্দা কামিল মাদ্রাসাসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, শ্রীকাইল নতুন গ্যাস ফিল্ডে যাওয়ার জন্য এই সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়কে ৭ টি ব্রিজ রয়েছে তার মধ্যে ৪টি ব্রিজ নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কার করায় বাকি ৩টি ব্রিজ অতিঝূকিপূর্ণ হওয়ায় ঝুকি নিয়েই যানচলাচল করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেটংঘর থেকে শ্রীকাইল যেতে প্রথমেই ঘোড়াশাল নামক স্থানে বড় একটি ব্রিজ বহু বছর ধরে পরিত্যাক্ত রয়েছে। কারণ ব্রিজের মাঝে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্রিজে প্রায় ৫ বছর পূর্বে মটরসাইকেলে করে রাতে টহল দেওয়া কালে ব্রিজের ফাটল দিয়ে নিচে পরে এক পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু হয়। এই ব্রিজের পাশ দিয়ে বাপেক্সের নির্মিত বিকল্প সড়ক দিয়ে এখন চলাচল করছে। তবে সংযোগ সড়কটি পাকাকরণ না হওয়ায় নানা দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
ঘোড়াশাল গ্রামে আরও একটি বেইলি ব্রিজ ভেঙ্গে পড়ার অবস্থা। স্টিলের পাটাতনে ছোট বড় একাদিক ছিদ্র সৃষ্টি হয়েছে। প্রায়ই সিএনজি চালিত অটোরিক্সশার চাকা আটকে গিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সোনাকান্দা কবরস্থান সংলগ্ন ব্রিজটি কয়েকটি স্থানে ডালাই ভেঙ্গে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজের মাঝখানের অংশ ধসে পড়ায় পথযাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও মালামাল পরিবহন করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।এই সড়কের ব্রীজগুলোর দ্রুত সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করার জোর দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগি একালাবাসী।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. আহাদ উল্লাহ নতুন কুমিল্লা.কম-কে জানান, নতুন করে ব্রীজ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা তৈরী হচ্ছে। প্রস্তাব গুলো অনুমোদন হলেই ব্রীজের নিমার্নের কাজ শুরু হবে।





