কুমিল্লার চান্দিনায় চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র বিএনপি-এলডিপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এসময় দোকানপাট ভাঙচুরসহ একটি মোটরসাইকেল জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলার চিলোড়া বাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অঙ্গ সংগঠন গণতান্ত্রিক যুবদল বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামকে কুপিয়ে জখম করে প্রতিপক্ষের লোকজন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বাড়েরা ইউনিয়ন গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দল সহ-সভাপতি ছোটন বলেন, চিলোড়া বাজার জামে মসজিদের উন্নয়নের জন্য দান অনুদানের যে টাকা পাওয়া যায় সব সময় সেগুলো গণতান্ত্রিক যুবদল উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামের মুদি দোকানে রাখা হয়।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে দোকানের সাটারের তালা ভেঙে মসজিদ ও দোকানের টাকা নিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরা যাচাই করে দেখা যায় পাশের এতবারপুর গ্রামের মৎস্যজীবী দল নেতা রোকনের ছেলে রিফাত (১৫) এ ঘটনাটি করেছেন।
পরদিন রোববার দুপুরে অভিযুক্ত রিফাতকে চিলোড়া বাজারে পেয়ে আটক করা হয়। এসময় রিফাতকে মারধর করে এক পর্যায়ে মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। ওই ঘটনার জেরে রিফাতের গ্রাম এতবারপুর, পৌরসভার হারং ও মহারং এলাকার বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গণতান্ত্রিক যুবদল উপজেলা বাড়েরা ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি মো. ফখরুল ইসলামের বসতবাড়িতে হামলা করে তাকে বেধড়ক মারধর ও কুপিয়ে জখম করে।
এসময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের মারধর এবং দোকান ভাঙচুর করে বিএনপি নেতাকর্মীরা। তিনি অভিযোগ করেন, চান্দিনা পৌর যুবদল আহ্বায়ক হাজী নুরু, পৌর ছাত্রদল আহ্বায়ক দোলন, এতবারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ওই হামলা চালায় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
অভিযুক্ত চান্দিনা পৌর যুবদলে আহ্বায়ক হাজী নূরুল ইসলাম মুন্সী বলেন, আমার মা অসুস্থ থাকায় আমি সারাদিন কুমিল্লাতে আছি। এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।
উপজেলা এলডিপির সভাপতি একেএম শামসুল হক মাস্টার বলেন, আমরা সব সময় সংঘর্ষ এড়িয়ে চলতে চাই। তবে আমাদের অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িঘর লুটপাট হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাশা করছি।
চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম বলেন, চুরির ঘটনা থেকে বিষয়টি রাজনৈতিক সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘটনার পর পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেননি।



