কুমিল্লা
শুক্রবার,৯ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৫ পৌষ, ১৪৩২ | ১৯ রজব, ১৪৪৭
শিরোনাম:

বুড়িচংয়ে করোনায় প্রবাসী তাওসীফের ব্যতিক্রম উদ্যোগ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে অবসর প্রাপ্ত পোষ্টম্যান হাজী মোঃ আবদুল খালেকের ছেলে মোঃ তাওসীফ আহমেদ জীবনের ব্যতিক্রম উদ্যোগের ফলে প্রতিদিন ৪/৫শত মানুষ রাতে সেহরী খেতে পারে। ফ্রান্স প্রবাসী জীবন পবিত্র মাহে রমজান মাসের গুরুত্বারোপ করে নিজের অর্থায়নে দিন-রাত পরিশ্রম করে বিভিন্ন হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার নাইটগাডসহ ভাসমান মানুষের সেহরী রান্না করে প্রতিদিন নিজ হাতে বিতরণ করেন।

তাওসীফ আহমেদ জীবন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে অনেক মানুষ বেকার হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন পেশাজীবির মানুষগুলোর আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যায় এবং হোটেল-রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় অনেকেই রোজা রাখার জন্য সেহরী খেতে পারে না।


কুমিল্লা ১৭ উপজেলার করোনাভাইরাস আপডেট দেখতে এখানে ক্লিক করুন


তাদের কথা চিন্তা করে আমার বাবা-মায়ের উৎসাহ-উদ্দিপণায় আমি মানুষের কল্যাণে এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রতিদিন সকাল দুপুর থেকে শুরু করে তারাবী নামায পর্যন্ত রান্না-বান্নার কাজ চলে এবং রাত ১১টা থেকে খাবার প্যাকেট করার কাজ শুরু করে রাত ২টা পর্যন্ত প্যাকেট করার কাজ চলে।

তারপর নিজেই গাড়ী নিয়ে বুড়িচং বাজার থেকে বিতরণ শুরু করে কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলা ও সদর দক্ষিণ উপজেলায় গিয়ে বিতরণ শেষ করে বাড়ি ফিরে আসি। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে চারটি হাফিজিয়া এতিম খানায় খরচ বহন করে আসছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত ৪১ বছর পূর্বে হাজী আবদুল খালেক বি-বাড়ীয়া জেলার কসবা উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জেটুয়ামোড়া গ্রাম থেকে চাকুরীর করার কারণে বুড়িচং বসবাস শুরু করে। বুড়িচং পোষ্ট অফিসে চাকুরী করে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভাড়া বাসায় জীবন যাপন শুরু করে।

ক্রমান্বয়ে বুড়িচংবাসীর সাথে তার মনের মিল হয়ে যাওয়া চাকুরী থেকে অবসর নেওয়ার পর আর নিজের বাড়ী জেটুয়ামোড়ায় যায়নি। বুড়িচং সুন্নিয়া আলিম মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় জমি ক্রয় করে নিজস্ব বাড়ী নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছে। এরই মধ্যে তার দ্বিতীয় ছেলে মোঃ তাওসীফ আহমেদ জীবন কর্মের তাগিদে ফ্রান্সে পাড়ি জমান।

তার পর থেকে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। ভাগ্য পরিবর্তনের পর থেকে বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণায় জীবন মানব কল্যাণে আত্মনিয়োগ করে।আর্তমানবতার সেবায় নিজস্ব তহবিল থেকে ত্রান বিতরণ করে এবং মানুষের বিপদে সহযোগীতার হাত প্রসারিত করে আসছে।

তার ধর্মীয় গুরু কাজী আমজাদ হোসেন নুরী বলেন,জীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা তার কাজে উৎসাহ প্রদান করে আসছি এবং তার জন্য দোয়া করি-সে যেন মানুষের কল্যাণে আগামী দিনগুলোতে আরো অবদান রাখতে পারে।

সমাজ সেবক মোঃ সাইফুল ইসলাম রমজান বলেন, আমার প্রতিবেশী তাওসীব আহমেদ জীবন ক্ষুর্ধাত মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে। সমাজের অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি রয়েছে যারা এই ধরণে উদ্যোগ নিতে সাহস করেনি। জীবন রোজদার মানুষের সেহরীর ব্যবস্থা করেছে। নিঃসন্দেহে এটা ভালো উদ্যোগ। তার জন্য দোয়া করি সে যেন মানুষের কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করতে পারে।

আরও পড়ুন