কুমিল্লা
মঙ্গলবার,২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ | ১৫ জিলহজ, ১৪৪৭
শিরোনাম:
অভি’কে সিইও হিসেবে অনুমোদন দিলো আইডিআরএ কুমিল্লায় ৭১১ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইসলামী ব্যাংকের ফাস্ট এ্যসিসস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নাজমুলের পদোন্নতি লাভ ‘গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ’ অ্যাওয়ার্ড পেলেন তাহসিন বাহার কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক নূর উর নবী চৌধুরীর ইন্তেকাল কাউন্সিলর প্রার্থী কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ লাকসামে বঙ্গবন্ধু ফুটবল গোল্ডকাপে পৌরসভা দল বিজয়ী কুসিক নির্বাচন: এক মেয়রপ্রার্থীসহ ১৩ জনের মনোনয়ন প্রত্যাহার কুসিক নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিদ্রোহী প্রার্থী ইমরান স্বাস্থ্য সচেতনতার লক্ষ্যে কুমিল্লায় ঢাকা আহছানিয়া মিশনের মেলার আয়োজন

গোমতী পাড়ের ‘যন্ত্রণায়’ ঘুমানোই কষ্টকর

ইজারা না থাকলেও কুমিল্লা গোমতী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে স্থানীয় একটি চক্র। একইসঙ্গে নদীর দুই পাড়ে ভেকু মেশিন দিয়ে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে নিচ্ছে চক্রটি। প্রশাসনের তৎপরতায় কৌশল পাল্টেছে তারা।

দিনের পরিবর্তে রাতভর কেটে নেয়া হচ্ছে গোমতীর মাটি, উত্তোলন করা হচ্ছে বালু। এতে একদিকে ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে নদী, অন্যদিকে বেড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের যন্ত্রণা। ড্রাম ট্রাকের বিকট শব্দে রাতে ঘুমাতে পারেন না তারা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, গোমতী নদীর সীমান্ত এলাকার গোলাবাড়ি, চান্দপুর, শালধার, টিক্কাচর, পাঁচথুবি, পালপাড়াসহ অন্তত ২০টি পয়েন্টে অর্ধশতাধিক ভেকু মেশিন দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। রাত ১১টার পর থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত মাটি কেটে ট্রাক্টরে করে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া অবৈধভাবে নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশে গোমতী নদীতে ইজারা দেয়া বন্ধ রয়েছে। গত চৈত্র মাসেই ইজারা বাতিল হয়েছে। বর্তমানে যারা অবৈধভাবে আছেন তারা দখল ও বালু তোলার নামে অসহায় কৃষকের ফসলি জমি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে কমছে চাষও।

গোমতী নদী থেকে অবৈধ মাটি ও বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার। এরপর থেকে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৫৫টি ড্রেজার মেশিন, ২২ ড্রাম ট্রাক, আটটি ট্রাক্টর, দুটি ভেকু মেশিন জব্দ করে।

এছাড়া লক্ষাধিক টাকা নগদ জরিমানা আদায় করা হয়। অভিযানের ফলে অল্প কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারও শুরু হয় অবৈধ মাটি কাটা।

স্থানীয় আনোয়ার, হাসমত ও সাইফুলসহ আরও বেশ কয়েকজন জানান, প্রশাসনের অভিযানে দিনে গোমতী থেকে মাটিকাটা বন্ধ হলেও রাত ১১টার পর চলে হুলুস্থুল কাণ্ড। ড্রাম ট্রাকের বিকট শব্দে রাতে ঘুমানো কষ্টকর হয়ে যায়। যেসব ঘরে রোগী আছেন, তাদের যন্ত্রণা তো আরও বেশি। দিনের মতো রাতেও অভিযান চালিয়ে গোমতীর মাটি চুরি বন্ধ করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আবু সাঈদ নতুন কুমিল্লাকে বলেন, ‘ইজারা না থাকায় গোমতী নদীর দুই পাড়ে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন সম্পন্ন অবৈধ। যারা রাতের আধারে মাটি কেটে নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আরও পড়ুন