কুমিল্লা
, খ্রিস্টাব্দ
|
শিরোনাম:
অপ্রতীম হত্যা মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ভাইয়ের স্ত্রী-সন্তান ভিটা বাড়ি দখলের অভিযোগ বরুড়ায় পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ২৭ ১৬ ঘণ্টা পর উদ্ধার লাইনচ্যুত কর্ণফুলী ট্রেনের বগি কুমিল্লায় কর্ণফুলী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত অভি’কে সিইও হিসেবে অনুমোদন দিলো আইডিআরএ কুমিল্লায় ৭১১ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিলেন ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন ইসলামী ব্যাংকের ফাস্ট এ্যসিসস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নাজমুলের পদোন্নতি লাভ কুমিল্লার সাবেক জেলা প্রশাসক নূর উর নবী চৌধুরীর ইন্তেকাল কাউন্সিলর প্রার্থী কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ

অপ্রতীম হত্যা মামলায় ৪ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীমের ফাইল ছবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যা মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ।

তদন্তে উঠে এসেছে, অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগপত্রে।

গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তা আদালতে দাখিল করা হয়। গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি নতুন কুমিল্লাকে নিশ্চিত করেন।

অভিযোগপত্রে সরাসরি অভিযুক্ত হিসেবে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৫) ও কামরুল হাসানের (১৬) নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আর সিয়ামের (১৮) বিরুদ্ধে হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদরে মধ্যে মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানের বয়স কম হওয়ায় গত ২১ সেপ্টেম্বর তাদের কুমিল্লা কারাগার থেকে গাজীপুর সংশোধনাগারে (শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে) পাঠানো হয়েছে। সাইফুল ইসলাম তুহিন ও সিয়াম বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন।

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে তুহিন অপ্রতীমকে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে যায়। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তুহিন বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। পরে ফাহাদ ও কামরুলও তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।

তদন্তে বলা হয়েছে, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত।

নিহত অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি জেনেছেন। তবে বিস্তারিত কিছু জানেন না। তিনি দ্রæত মামলার রায় দেওয়ার দাবি জানান। তার অভিযোগ, দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্র্নিধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মামলার বাদী ও অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্ত কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে অভিযোগপত্র আদালতে দাখিলের বিষয়টি জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রæত বিচার চাই। আদালতে দ্রæত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে, সেই আশই করছি। তবে দুই আসামির বয়স কম দেখানো হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স পুনর্র্নিধারণের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্র প্রস্তুত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তা আদালতে দাখিল করা হয়। গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেন।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান বলেন, দুই কিশোরসহ চার আসামির বিরুদ্ধে গত ২০ অক্টোবর অভিযোগপত্রে প্রস্তুত করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) তা আদালতে দাখিল করা হয়। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই অপ্রতিমকে হত্যা করা হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন