কুমিল্লায় চাঞ্চল্যকর কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দিয়েছে পুলিশ। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্রটি কুমিল্লার আদালতে জমা দেওয়া হয়। তবে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) এটি প্রকাশ্যে এসেছে।
বিকেল ৩টায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আলম নতুন কুমিল্লাকে এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন, কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার নাওতলা গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে মো. সোহাগ (৩৪), আদর্শ সদর উপজেলার ধর্মপুর এলাকার মৃত হারুন মিয়ার ছেলে ইসমাইল হোসেন জনি (২৮), একই উপজেলার আমড়াতলী গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪), আড়াইওরা গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং ধর্মপুর এলাকার মৃত সজল মিয়ার ছেলে মো. সুজন (৩২)। তারা বর্তমানে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
মামলার তদন্তকর্মকর্তা মো. সামসুল আলম বলেন, আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলাটি দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। আদালত অভিযোগপত্রটি গ্রহণ করে বিচারের জন্য মামলাটি কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন।
তিনি আরো বলেন, আসামি জনি, জুয়েল ও সুজনের স্থায়ী ঠিকানা তদন্তে শনাক্ত করা যায়নি। এ কারণে চার্জশিটে তাদের ‘ভাসমান’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত বুলেট বৈরাগী ৪১তম বিসিএসের নন-ক্যাডার কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া গ্রামে। তিনি সুশীল বৈরাগীর ছেলে। চাকরির সুবাদে পরিবার নিয়ে কুমিল্লা নগরের রাজগঞ্জের পানপট্টি এলাকায় বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, চট্টগ্রামের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমিতে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে গত ২৪ এপ্রিল চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লার উদ্দেশে রওনা হন বুলেট বৈরাগী। যাত্রাপথে তিনি মুঠোফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরদিন সকালেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২৫ এপ্রিল সকালে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার আওতাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নামতি হাইওয়ে থানা পুলিশ। পরে মরদেহটি থানায় নেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তার পরিচয় শনাক্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে সঙ্গে থাকা নগদ টাকা লুট করে নেয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা লিলিমা বৈরাগী বাদী হয়ে গত ২৫ এপ্রিল কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
মামলার বাদী ও বুলেট বৈরাগীর মা লিলিমা বৈরাগী বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি জানানো হয়েছে। তিনি চান যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি হোক।




