এবার এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেন ৯২ হাজার ১৬২ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৪৪ হাজার ৭২৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন। গত ৫ বছরের তুলনায় এবছর পাশের হার ও জিপিএ-৫ সর্বনিম্ন।
এবার উদ্বেগের কথা হলে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণকারী ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন পরীক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি এবং শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা মাত্র চারটি।
শিক্ষাবোর্ড সূত্রে মতে, ২০২৬ সালের ২ জুলাই অনুষ্ঠিত এইচএসসি পরীক্ষায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৫৬টি কলেজের ৯২ হাজার ১৬২ জন শিক্ষার্থী ১৯৩টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়। এদের মধ্যে ফেল করেছে ৪৭ হাজার ৪৩৫ জন শিক্ষার্থী।
১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজনও পাশ করতে পারেনি:
চাঁদপুর সদরের চাঁদপুর পৌর শহীদ জাবেদ উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, মতলব দক্ষিণের ড. এম শামসুল হক মডেল কলেজ, কুমিল্লার লালমাই সুরুজ মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, চৌদ্দগ্রামের বগৈর গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়ার প্রফেসর সিকান্দার আলী ভূঁইয়া গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নবীনগরের জিনদপুর ইউনিয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ,
লক্ষ্মীপুরের ক্যামব্রিজ সিটি কলেজ, কমলনগরের তুরাবগঞ্জ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফজু মিয়ার হাট হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সদরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. মমতাজ উদ্দীন আলোকিত কলেজ, লক্ষ্মীপুর পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ফেনী সদরের বেগম শামসুন্নাহার গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বিকন মডেল কলেজ এবং নোয়াখালী বেগমগঞ্জের আপার মডেল কলেজ।
৪ কলেজ শতভাগ পাশ করেছে:
এই তালিকায় রয়েছে সদরের ময়নামতি ইংলিশ স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার মুজাফফ আলী হাই স্কুল এন্ড কলেজ, কুমিল্লা ক্যাডেক কলেজ ও ফেনী গার্লস ক্যাডেট কলেজ।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, এবার ইংরেজি ও উচ্চতর গণিতে ফেলের হার বেশি থাকায় মোট ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এর উল্লেখ যোগ্য কারণ হলো শিক্ষাদের মোবাইল আসক্তি, কয়েকটি আন্দোলন এবং পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তন সহ সম্পন্ন নকল মুক্ত পরীক্ষা উপহার দেয়া।
তিনি আরও বলেন, ১৫টি কলেজকে শীঘ্রই কারণ দর্শনোর নোটিশ দেয়া হবে। এরপর পর্যায় ক্রমে এইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেয়া দরকার, সে ব্যবস্থাগুলো আমরা নেবো।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে পাসের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছিল দুই হাজার ৭০৭ জন। সে হিসেবে এ বছর কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষায় বিগত বছরের চেয়ে এবার পাশের হার কমেছে এবং জিপিএ-৫ এর সংখ্যা নেমেছে অর্ধেকে।



