মহামারী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে কুমিল্লায় প্রাথমিকভাবে মাঠে নামলেও পুরোদমে আজ বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে মাঠে নামবে সেনাবাহিনী। কুমিল্লায় সেনাবহিনী এসেই প্রথম বৈঠক করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয় সভা করেন তারা।
মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সেনাবাহিনী, জেলা প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বয় সভায় অনুষ্ঠিত সভায় কুমিল্লার জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সেনাবাহিনীর ৩১ বীরের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহাবুব আলম, ৩৫ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সেনাবাহিনীর ৩১ বীরের অধিনায়ক লে. কর্ণেল মাহাবুব আলম জানান, কুমিল্লা শহরে একটি ক্যাম্প এবং বাকিগুলো অন্য এমন স্থানে করা হবে যাতে একটি স্থান থেকে আমরা দুই তিনটা উপজেলায় সহজে যেতে পারি।
মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়েরর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় জেলা প্রশাসক মোঃ আবুল ফজল মীর জানান,করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রোধে সরকার বদ্ধ পরিকর। সে লক্ষ্যেই বেসামররিক বাহিনিীর সাথে সামরিক বাহিনী সহযোগিতা করবে। দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আগেও যেমন সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমরা বিভিন্ন বিপদ থেকে দ্রুত উদ্ধার হতে পেরেছি এবারও আমরা তাই তাদের সহযোগিতা নিয়েছি।

টিসিবি ন্যায্য মূল্যে পন্য বিক্রি করছে জানিয়ে জেলা প্রশাসক জানান, নিম্ন আয়ের মানুষ ঘরে থাকলেও সমস্যা হবে না। সরকার সব ব্যাপারেই সচেতন আছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য আমরা কি করতে পারি তা খুব শীঘ্রই নির্দেশনা পাবো এবং সে মোতাবেক কাজ করে যাবো। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ যেন ঘরের বাইওে না যায়-এটাই মূল কথা।
সভায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ৩১ বীর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুব জানান, আমরা জেলাপ্রশাসনসহ অন্যান্যদেও সাথে সভায় বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছি। সোমবার আমরা এসবের ট্রায়াল(পরীক্ষা) করবো। বুধবার থেকে সেনাবাহিনী তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবে। তিনিও জানান, বিনা প্রয়োজনে কেউ ঘর থেকে বের হবেন না।
সভায় উপস্থিত থাকা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, প্রবাসীরা হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছে কি না তা পুলিশ খোঁজ রাখছে। এবং তা নিশ্চিত করছে। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা মোতাবেক পুলিশ তার কাজ চালিয়ে যাবে।
সিভিল সার্জন ডা. নিয়াতুজ্জামন জানান, সরকারি নির্দেশনা মত সবধরনের ব্যবস্থায় আমরা সচেষ্ট আছি। যখন যে ধরনের প্রয়োজন কুমিল্লা স্বাস্থ্য বিভাগ তা করে যাবে। এই মুহুর্তে সবাইকে যার যার অবস্থানে থাকা নিশ্চিত করাটা জরুরি। কোন জন সমাগম বা সমাবেশ যেন কেউ না করে সে ব্যাপারে সবাইকে সবার আগে সচেষ্ট থাকতে হবে।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ নুরুজ্জামান, লে. কর্নেল নাজমুল, মেজর সাইফসহ সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তার।





